ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ ভর্তি ২০২৬-২৭ — যোগ্যতা, পরীক্ষা ও আবেদন
To read this in English, visit: Faujdarhat Cadet College Admission 2026-27 — Eligibility, Exam and How to Apply
ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ বাংলাদেশের প্রথম ক্যাডেট কলেজ, প্রতিষ্ঠিত ১৯৫৮ সালের ২৮ এপ্রিল, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুরে। ১৮৪ একরের এই ক্যাম্পাসই দেশের বাকি ক্যাডেট কলেজগুলোর আদল তৈরি করেছে।
ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ — এক নজরে
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠানের নাম | ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ |
| কেন্দ্রীয় তালিকায় | নেই — একাদশ শ্রেণির কেন্দ্রীয় ভর্তি তালিকায় এই প্রতিষ্ঠান নেই (যাচাই ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) |
| ঠিকানা | সলিমপুর, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম |
| শিক্ষা বোর্ড | চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড |
| ধরন | সেনাবাহিনী পরিচালিত ক্যাডেট কলেজ |
| শিক্ষার্থী | ছাত্র (বালক) |
| প্রতিষ্ঠাকাল | 1958 |
| ভর্তি পদ্ধতি | জাতীয় ভর্তি পরীক্ষা — ৭ম শ্রেণি |
| ওয়েবসাইট | fcc.army.mil.bd |
ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-২৭ — এখন কী অবস্থা
এই পাতায় একাদশ শ্রেণির আসন বা জিপিএর কোনো তালিকা নেই, এবং সেটিই সঠিক — ক্যাডেট কলেজে একাদশে ভর্তি হয় না। যে সাইটগুলো ক্যাডেট কলেজের “একাদশ শ্রেণির কাট-অফ” প্রকাশ করে, তারা এমন একটি প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে যা প্রতিষ্ঠানটির নেই।
⚠️ প্রতিষ্ঠাতা কে, তা নিয়ে সেনাবাহিনীর দুটি নিজস্ব সূত্র একমত নয়। কলেজের নিজস্ব ইতিহাস পাতায় প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ফিল্ড মার্শাল মুহাম্মদ আইয়ুব খানের নাম আছে এবং লে. কর্নেল ডব্লিউ. এম. ব্রাউনকে বলা হয়েছে প্রথম অধ্যক্ষ (সেপ্টেম্বর ১৯৫৮ – নভেম্বর ১৯৬৫); অন্যদিকে সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় পাতায় ব্রাউনকেই প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়েছে। দুটোই সরকারি সূত্র, তাই এখানে একটি বেছে না নিয়ে অমিলটিই জানিয়ে রাখা হলো।
ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ সম্পর্কে
শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল ইস্ট পাকিস্তান ক্যাডেট কলেজ; ১৯৬৫ সালে নাম বদলে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ হয়। প্রাক্তন ছাত্র সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী প্রথম ব্যাচ শুরু হয়েছিল সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির মাত্র ৫৯ জন ক্যাডেট নিয়ে; আজ পর্যন্ত এখান থেকে ৩,৪২৪ জন ক্যাডেট বেরিয়েছে।
কলেজের মটো “Deeds Not Words” — কথা নয়, কাজ। চারটি হাউসের নাম রবীন্দ্র, নজরুল, ফজলুল হক ও শহীদুল্লাহ, আর প্রতিটির নিজস্ব মটো আছে: “Strike And Strive”, “They Live Who Dare”, “Never Give In” ও “We Shall Never Surrender”।
ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ — ৭ম শ্রেণিতে আসন
| গ্রুপ / বিভাগ | আসন | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ৭ম শ্রেণিতে বার্ষিক ভর্তি | 50 | কলেজের নিজস্ব সাইটের ভাষায় ৭ম থেকে ১২শ শ্রেণিতে মোট ৩০০ জন, প্রতি শ্রেণিতে ৫০ জন |
সংখ্যাগুলো বর্তমান কাঠামো শিক্ষাবর্ষের; নতুন বিজ্ঞপ্তি এলে বদলাতে পারে।
ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ-এ একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া যায়?
সংক্ষেপে: যায় না। ক্যাডেট কলেজে শিক্ষার্থী নেওয়া হয় কেবল ৭ম শ্রেণিতে, আর সেই ক্যাডেটরাই দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে — অর্থাৎ একাদশ শ্রেণির আসন আগে থেকেই পূর্ণ। এসএসসির পর বাইরে থেকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির কোনো পথ নেই, আর কেন্দ্রীয় একাদশ ভর্তির তালিকায় কোনো ক্যাডেট কলেজ নেই (আমরা ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ৯টি সাধারণ বোর্ডের ৬৬ জেলার ৫,১৩৪টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা মিলিয়ে দেখেছি — একটিও নেই)।
| যে প্রশ্নটি খোঁজা হয় | প্রকৃত উত্তর |
|---|---|
| একাদশ শ্রেণিতে ন্যূনতম জিপিএ | প্রযোজ্য নয় — একাদশে ভর্তি নেই / Not applicable — there is no Class XI intake |
| এসএসসির পর ভর্তির সুযোগ | নেই / None |
| যে শ্রেণিতে ভর্তি হয় | ৭ম শ্রেণি / Class VII |
ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ-এ কীভাবে ভর্তি হয়
ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ-এ ভর্তি হয় ৭ম শ্রেণিতে, একটি জাতীয় ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে — কোনো একটি কলেজে আলাদা করে নয়। আবেদন হয় cadetcollegeadmission.army.mil.bd ঠিকানায়, আর সেখানেই পছন্দের ক্যাডেট কলেজের ক্রম দিতে হয়।
নির্বাচন কয়েক ধাপে হয় — প্রথমে লিখিত পরীক্ষা, উত্তীর্ণদের জন্য মৌখিক পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা। প্রতিটি ধাপ আলাদা করে উতরাতে হয়, একটিতে বাদ পড়লে পরেরটিতে যাওয়া যায় না।
আবেদন করতে হয় সব ক্যাডেট কলেজের জন্য একসঙ্গে, একটি কেন্দ্রীয় আবেদনে — কোনো একটি কলেজে আলাদা করে নয়। নির্বাচিত হলে কোন কলেজে জায়গা হবে তা নির্ধারিত হয় ফলাফল ও পছন্দের ভিত্তিতে।
২০০৩ সাল থেকে সব ক্যাডেট কলেজ জাতীয় পাঠ্যক্রমের ইংরেজি ভার্সনে পড়ায়, অর্থাৎ ভর্তির পর পাঠ্যবই জাতীয় কারিকুলামেরই — ইংরেজি মাধ্যমে।
| শর্ত | বিবরণ |
|---|---|
| যে শ্রেণিতে ভর্তি | ৭ম শ্রেণি — ক্যাডেট কলেজে ভর্তির একমাত্র প্রবেশপথ |
| আবেদনের ঠিকানা | cadetcollegeadmission.army.mil.bd |
| নির্বাচনের ধাপ | লিখিত পরীক্ষা → মৌখিক পরীক্ষা → স্বাস্থ্য পরীক্ষা |
| বয়স ও অন্যান্য শর্ত | প্রতি বছরের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত — এখানে লেখা হয়নি, কারণ শর্তগুলো বছরে বদলায় এবং আমরা চলতি বিজ্ঞপ্তির লেখা পড়তে পারিনি |
| একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি | নেই — কেন্দ্রীয় একাদশ ভর্তির তালিকায় ক্যাডেট কলেজ নেই |
কেন ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ বেছে নেবে
- বাংলাদেশের প্রথম ক্যাডেট কলেজ (১৯৫৮)
- সীতাকুণ্ডে ১৮৪ একরের আবাসিক ক্যাম্পাস
- প্রতি শ্রেণিতে ৫০ জন — ছোট ক্লাস, ঘনিষ্ঠ তত্ত্বাবধান
- চারটি হাউস, প্রতিটির নিজস্ব ঐতিহ্য ও মটো
সাধারণ জিজ্ঞাসা
না। ক্যাডেট কলেজে ভর্তি নেওয়া হয় কেবল ৭ম শ্রেণিতে, আর সেই ক্যাডেটরাই দ্বাদশ পর্যন্ত পড়ে। এসএসসির পর বাইরে থেকে ঢোকার কোনো পথ নেই — একাদশে ভর্তির কথা ভাবলে কেন্দ্রীয় আবেদনের কলেজগুলোই তোমার বিকল্প।
কলেজের নিজস্ব সাইটের ভাষ্য অনুযায়ী ৭ম থেকে ১২শ শ্রেণিতে মোট ৩০০ জন ছাত্র, প্রতি শ্রেণিতে ৫০ জন। অর্থাৎ প্রতি বছর ৫০টি আসনের জন্য জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা হয়।
ইস্ট পাকিস্তান ক্যাডেট কলেজ। ১৯৬৫ সালে নাম হয় ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। পুরোনো নথি বা প্রাক্তন ছাত্রদের লেখায় আগের নামটি এখনো দেখা যায়।
cadetcollegeadmission.army.mil.bd ঠিকানায়, এবং আবেদনটি সব ক্যাডেট কলেজের জন্য একসঙ্গে — আলাদা করে ফৌজদারহাটে আবেদন করার ব্যবস্থা নেই। বয়স ও অন্যান্য শর্ত প্রতি বছরের বিজ্ঞপ্তিতে থাকে।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















